নির্মম পরিহাস

লেখিকা- পল্লবী ওঝা

গৃহবন্দি এখন মানুষের জীবনের এক চরমতম সমস্যা এই করোনা। কর্মঠ ও ব্যস্ততার ইঁদুর দৌড় মানুষের এখন আর নেই।বাড়ি ফিরে কর্মক্লান্ত মানুষ শান্তির আশ্রয়ের অপেক্ষার আশায় থাকতো ,আর এখন সেই অবিরাম শান্তির আশ্রয় পেয়ে আবার ক্লান্ত মানুষ ।প্রকৃতি মানুষকে আর কতভাবে সাহায্য করবে। সেই আদিম কাল থেকেই প্রকৃতি মানুষের পাশে আছে। প্রকৃতিই মানুষের নগ্নতা কাটিয়ে তুলেছে ,দিয়েছে এক সুস্থ ও পরিপূর্ণ সামাজিক জীবনধারা । আদিম কালে প্রকৃতিই মানুষকে খাদ্য বস্ত্র ও বাসস্থানের পূর্ণ যোগান দিয়েছিল। ভগবানের কৃপায় ও ইচ্ছায় মানুষ হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে চিন্তাশীল ও বুদ্ধিপূর্ণ প্রাণী । মানুষ সেই চিন্তা ও বুদ্ধি দিয়ে এক উচ্চপদাসীন। মানুষের জীবনধারা এখন কৃত্রিম মোড়কে মুড়ে গেছে। প্রকৃতি মানুষকে স্পর্শই করতে পারে না। প্রকৃতি ও মানুষের দূরত্ব এখন ব্যাপক। মানুষ আজ ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে প্রকৃতি মাতাকে ভুলে…ঠিক যেমন মা সন্তানের মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থা থেকে সন্তানকে সযত্নে লালন পালন করে এক সুস্থ জীবনধারা দিয়ে সমাজে সন্তানকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে তোলে, আর সেই সন্তান সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তার নিজের মা কেই ভুলে যায়, আর ব্যাকডেটেড হয়ে পড়ে থাকে তাদের মা। কেউ তাচ্ছিল্য করে, আবার কেউবা উপহাস করে ‘মা backdated , আমাদের সঙ্গে মানাবে না…’ কিন্তু প্রকৃতির কি নির্মম লীলাখেলা কয়েক বছর পর তাদের ও এই অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। মানুষ সবকিছু জানে ও বোঝে, তবু মানুষ খুব অকৃতজ্ঞ,দাম দিতে জানে না। পরমপিতার কথায় _ ‘দেওয়ার বেলায় নবঘন্টা, নিতেই লেলিহান’। প্রকৃতির কাছেও মানুষ অকৃতজ্ঞ হয়ে গেল। আধুনিক জীবনধারায় মত্ত মানুষ আজ তার প্রকৃতি মাতাকে ভুলে কৃত্রিম রঙে মেতে দিগ্বিদিক শূন্য করে ফেলেছে।তাইতো কিছুদিন আগে তাদের প্রকৃতি মাতার গায়ে আঘাত করেছে। মানুষ একটিবারও ভাবলো না,বুঝলোও না এর জন্য সেই প্রকৃতি মাতার কতখানি কষ্ট হতে পারে, মানুষ আঘাত দিয়েই যায়, মানুষ বিবেকহীন। নিজ বাড়িতে সন্তানকে তাদের মা-বাবা ও পরিবার শুধু পুঁথিগত শিক্ষা সুপ্রতিষ্ঠিত করার তাগিদে,সমাজে তাদের সন্তানের নাম, সম্মান কুড়িয়ে পাইয়ে দেওয়ার তাগিদে সেইসব এর উপকরণ দিয়ে আবহমন্ডলের বেষ্টনী তৈরি করেই যায়, প্রকৃতির সঙ্গে মেশার সুযোগই দেয় না।তাইতো সেই কৃত্রিম সন্তানরা প্রকৃতি থেকে কিছুই শিখতে পারছে না,প্রকৃতি ও তাদের মধ্যে দূরত্ব অনেকখানি বেড়ে যাচ্ছে। প্রকৃতি তাদের সন্তানদের কাছে না পাওয়ার অন্তরবেদনায় হচ্ছে অভিশাপ দিতে বদ্ধপরিকর। এত পরিপাটি করে সন্তানদের সুপ্রতিষ্ঠিত করার পরও তারা তাদের মা-বাবাকে ভুলে যাচ্ছে, দূরে সরিয়ে রাখছে, কারণটা হলো প্রকৃতি থেকে শেখার অভাব থেকে গেছে,কিছু শিখতেই পারেনি।প্রকৃতির মত তাদের মা-বাবা শুধু দিয়েই গেছে। তাই তারা শুধু নিতেই লেলিহান, এই অভ্যাস এই অভ্যস্ত।প্রকৃতি আজ তাইতো নির্মম পরিহাসে মত্ত, এই কারণেই হয়তো বা করোনা এসে মানুষকে এক কঠোর সাজা দিচ্ছে,প্রকৃতিকে পুড়িয়ে ফেলার কষ্ট বেদনার প্রতিশোধ নিচ্ছে।Nature’s poet William Wordsworth তার ‘Tintern Abbey’কবিতায় বলেছেন কবিতায় বলেছেন _’Nature never did betray the heart,that loved her’.সারা বিশ্বের মানুষ আজ করোনার বেড়াজালে গৃহবন্দী,কিন্তু মানুষ ছাড়া বাকি সমস্ত প্রাণী আজ মুক্ত।তাইতো পরিবেশ দূষণমুক্ত আর সেজন্য লুকিয়ে থাকা কচ্ছপ ও দিনের বেলায় সমুদ্র তীরে দেখা যাচ্ছে।মানুষ বিনা পাখি পশু তথা প্রকৃতির অন্যান্য সন্তানরা নির্দ্বিধায় প্রকৃতির সঙ্গে আনন্দে মেতে প্রকৃতির সঙ্গে খেলা করতে পারছে। তাই আমার ছোটবেলার গুছিয়ে রাখা খেলনা গুলো ও ডালপালা পাতা ফুল ফল দিয়ে এক সবুজ বনানীর আবহ ফুটিয়ে তুললাম।

পোষ্টটি কেমন লাগল?

মতামত দিতে আপনাকে অবশ্যই লগিন থাকতে হবে।

গড় মান 3 / 5. মোট মতামত 2

আপনিই প্রথম মতামত দিন।

আপনার ভালো লাগেনি শুনে দুঃখিত!

কিভাবে উন্নতি করা যায়?

কিভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে সমন্ধে আপনার মতামত দিন।

মুক্তাঙ্গন

Author: মুক্তাঙ্গন

চিন্তা হোক উন্মুক্ত...

Leave a Reply